• আমিন বাবু

একবিংশ শতাব্দিতে ফাউন্টেন পেন হাতে উঠে আসার পর এর উর্ধমুখীতার গ্রাফ ঠেকে গেছে কাগজ আর কালির সমন্বয় এবং এ সংক্রান্ত কিছু অমিমাংসীত বিষয়ে। যারা এক কথায় “সবচেয়ে ভালো” কাগজ কোনটি তা জানতে চেয়েছেন তারা দেখছেন, শেষ বা সর্বশেষ্ঠ বলে কিছু নেই।

বাজারে কোন কাগজটা সবচেয়ে ভালো বা কম দামে ভালো কাগজের খোঁজ কম-বেশি সবাই করছে। এ বিষয়টি নিয়ে ফাউন্টেন ব্লগে লেখালেখি বেশি হয় ২০১৯ পুরোটা আর ২০২০ সাল এর শুরুতে। লক্ষ্য করা গেছে বেশিরভাগ ব্লগেই কাগজের gsm প্রাসঙ্গে আলাপ বা প্রশ্ন বেশি এসেছে। এর বাইরে হট প্রেস, কোল্ড প্রেসে তৈরি হ্যান্ডমেড পেপার নিয়েও বিস্তর আলোচনা আছে। আছে, ব্লিচ/আনব্লিচ পেপারের ভূমিকা এবং বিবিধ প্রসঙ্গ। কাগজের জটিলতম দিকগুলো নিয়ে ব্যাখা-বিশ্লেষণ বিগত বছরগুলোয় নেটিজেনরা পুঁথি আকারে লিখে ফেলেছেন। সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, কাগজ এখন তৈরি হয় প্রিন্ট আর ছাপার কাজের জন্য। সুতরাং সেসব কাগজ নানারকম রাসায়নিক দ্রব্য ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে পূর্ণ। সেই আদি খসখসে নানারকম লেখার কাগজ বানানো হচ্ছে ঠিকই তবে তা পরিমানে খুবই কম। এখানে আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিজেদের ব্যবহার ও যারা দীর্ঘদিন কাগজ নিয়ে কাজ করছেন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কাগজের ভর, পরিমাপ, কালির ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাতের চেষ্টা করবো। এই লেখায় আমাদের সবার অভিজ্ঞতা সন্নিবেশিত হয়েছে। তাই আগামীতে পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের সুযোগ থাকবে।

কাগজের ভর

কাগজ নিয়ে কথা উঠলেই প্রথম প্রশ্নটা আসে; ভাই, এটা কত জিএসএম? এই জিএসএম’র হকিকত সবারই জানা। তারপরও লেখার ধারাবাহিকতার স্বার্থে এই চর্বিত চর্বণ। সাধারণত Grams per Square Meter (GSM) কে কাগজের ভর ও মান হিসেবে বিবেচনায় ধরা হয়। কিন্তু এক্সপেরিমেন্টে বোঝা যাচ্ছে gsm সর্বদা সমান ভূমিকা পালন করে না। বিশেষত সব ধরণের তরল কালির জন্য কাগজ কী পারফরমেন্স দেবে সেটা শুধু gsm এর উপর নির্ভর করে না। বস্তুত ছাপার কালি, ক্যালিগ্রাফির কালি আর ফাউন্টেন পেনের কালি আলাদা আচরণ প্রদর্শন করে।

পরিমাপ

প্রতি বর্গমিটারে কী পরিমান মন্ডা বা পাল্প (কাগজের কাঁচামাল) দেয়া হয়েছে তা প্রকাশ করা হয় (g/m2=gram per square meter) দিয়ে। এই ডেনসিটি বা ঘনত্বকে grammage* বলা হয়। কাগজ যত পুরু ততই তা ভারি হবে। 35 gsm থেকে 400 gsm পর্যন্ত কাগজের থিকনেস সাধারণত দেখা যায়। যেমন: 80gsm বলতে বোঝাবে এক বর্গমিটারের একটি কাগজ দৈর্ঘ, প্রস্থ ছাড়াও উচ্চতায় কতটুকু বা কতটা পুরু সেই তথ্যটা। কাগজের থিকনেস যত বাড়বে তার সাথে জিএসএম’ও বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ কাগজের সাইজ ঠিকই থাকছে শুধু এর পুরুত্ব কমবেশি হচ্ছে, আর পুরুত্ব কমবেশি হলে ওজনও বাড়ছে বা কমে যাচ্ছে। এভাবে প্রতি জিএসএম’এ কাগজের হিসাব রাখা হয়।

ছবি : Banana Print

কাগজের পুরুত্ব মাপার ভিন্নতাও আছে। অনেকেই জানেন, আমেরিকা, কানাডা ও ব্রাজিলের কিছু অংশে পাউন্ড হিসেবে কাগজের পরিমাপ হয়। সেখানে বাজারে পাওয়া যায় 20 pound/ 30 pound এর A4 সাইজের কাগজ। আমাদের দেশে স্টেশনারি দোকানে A4 সাইজের এক রিম কাগজ কিনতে হলে যেখানে বলতে হচ্ছে, 80gsm এর একটা রিম দিন। সেখানে কানাডা বা আমেরিকায় 20 pounds(lb) বা 30 pounds(lb) এর রিম চাইতে হবে। অর্থাৎ এটাও ওজন নির্ভর পরিমাপ কিন্তু রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ডের কারণে gsm এর বদলে pound ব্যবহার হচ্ছে। জিএসএম/পাউন্ড কাগজের ওজন নির্দেশ করে ঠিকই কিন্তু এটা কাগজের মান প্রকাশক নয় কখনোই। কাগজের মান বিচার হয় তার স্তর, পরিমাণ, ওজন ইত্যাদি ভেদে পারফরমেন্সের ভিত্তিতে। হতে পারে, কোনো কাগজ ফাউন্টেন পেনের জন্য খুবই ভালো কিন্তু সে কাগজ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারছে না। আবার হতে পারে কোন কাগজ খুব মোটা সেখানে কলম-কালির পারফরমেন্সও সন্তুষ্টজনক নয় কিন্তু তার স্থায়িত্ব বেশি। সুতরাং এসব বিষয় নির্ভর করে কাগজের ট্রিটমেন্টের উপর। এই ট্রিটমেন্টই একটি কাগজকে নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য স্পেশালিষ্ট করে তোলে। সেজন্যই দেখা যায়; কোনো কাগজে কালি শুকাতে দেরি হয় কিন্তু শিন বেশি, আবার কোনটায় শিনিং নেই কিন্তু ওই একই কলম ও কালি দিয়ে লিখলে মুহূর্তে শুকিয়ে যায়। কিছু কাগজ মোটা হলেও দুই তলে লেখার উপযোগী না আবার কিছু কাগজ খুব পাতলা হয়েও দুই পিঠে লেখার পাফরমেন্স দেয়।

পুরুত্ব অনুযায়ী কাগজের ব্যবহার

মুদ্রণ শিল্পে বেশি ব্যবহার হয় 40 gsm থেকে 50 gsm ’র কাগজ। কিছু হয় গ্লসি মোটা কাগজে। মানভেদে ফটোকপির জন্য ব্যবহার হয় লোয়ার গ্রেড 60 gsm থেকে 80 gsm, লেটারহেড প্রিন্টে 100 gsm 120 gsm, বিজনেস কার্ড ও ফ্লাইয়ারে 300 gsm থেকে 350 gsm কাগজ জনপ্রিয়। কিন্তু লেখার জন্য কালি ও কলম বিবেচনায় রেখে একটু ভিন্নতা দেখা যায় আমাদের দেশে। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও দাপ্তরিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় 60 gsm থেকে 100 gsm কাগজ। যদিও আমেরিকা এমনকি ইউরোপের অনেক দেশে 55 gsm, 90 gsm, 100 gsm, 120 gsm, 140 gsm, 210 gsm, 250 gsm, 350 gsm, 400 gsm এই কয়ভাগে কাগজ বিক্রি হয়। অনেক দেশে আবার 90 gsm’র নিচের কাগজকে অফসেট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া নেই বা অফিসে ব্যবহার অযোগ্য। কাগজ আমাদের দেশে বিক্রি হয় সাধারণত রিম ও দিস্তা হিসেবে। ভোক্তা পর্যায়ের রিমের সাথে পাইকারি বা মিল পর্যায়ে কাগজের রিমে পার্থক্য রয়েছে। প্রতি পিসকে আবার কাগজের ভাষায় ‘তা’ বলা হয়। এভাবে ‘তা’ দিস্তা ও রিম দিয়ে অনাদিকাল ধরে উপমহাদেশে কাগজের হিসাব ও ব্যবসা চলে আসছে।

  • ৪৭২ তা : মিল রিম             [২৪ তা=১ দিস্তা, ১৮ দিস্তা=১ রিম ]
  • ৪৮০ তা : হ্রস্ব রিম              [২৪ তা=১ দিস্তা, ২০ দিস্তা=১ রিম]
  • ৫০০ তা : বৃহৎ রিম            [২৫ তা=১ দিস্তা, ২০ দিস্তা=১ রিম]
  • ৫০৪ তা : স্টেশনারি রিম     [২৪ তা=১ দিস্তা, ২১ দিস্তা=১ রিম]
  • ৫১৬ তা : প্রিন্টার রিম         [২৪ তা=১ দিস্তা, ২১.৫ দিস্তা=১ রিম]

নিউজপ্রিন্টের ক্ষেত্রে ৫০০ তা-এর কাগজকে ১ রিম ধরা হয়। বর্তমানে ৫০০ তা-এর রিমকে আন্তর্জাতিক আদর্শ মাপ ধরা হয়।

কাগজের কাটিং সাইজ/মাপ

কাগজের সাইজ হিসাব হয় উৎপাদনের পর একটি বড় শিটকে আপনি কোন আকৃতি বা মাপে কাটবেন তার উপর। সাইজ বোঝার স্বার্থে ISO কর্তৃক নির্ধারিত কাগজের একটি মাপ নিচে দেয়া হলো।

মনে রাখা দরকার, কাগজের আকার যত বড় এর প্রকাশে অংকটা তত ছোট হবে। সে হিসাবে বাজারে বিক্রিত সবচেয়ে বড় পেপার শিট A0। কিন্তু আমরা অফিস ও বাসায় দৈনন্দিন কাজে A3/A4/A5 সাইজের কাগজ বেশি ব্যবহার হতে দেখি।

তরল কালির কাগজ

ফাউন্টেন পেনের কালি বা এ জাতীয় তরল কালির ব্যবহার হয় যে সারফেসে সেই কাগজ কেমন হওয়া উচিত তার বিশ্বস্বীকৃত কোন ফর্মূলা ধরে নেয়া বোধহয় সমুচিত হবে না। ধরা যাক, 80 gsm’র দুটো কাগজ বাজার থেকে কিনে একটা মিডিয়াম নিব দিয়ে আপনি লিখলেন। দেখা গেল, জিএসএম একই হলেও কালির সাথে তদুপরী একই কলম ও নিব পয়েন্টের সাথে কাগজ দুটি ভিন্ন আচরণ করছে। একটাতে মনে হচ্ছে নিব কেউ ধরে রাখছে- খসখসে; অন্য কাগজে লেখা তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। আচরণগত এই পার্থক্য শুধু GSM’র কারণে নয়। এরসাথে জড়িয়ে থাকে কালিতে রাসায়নিকের মাত্রা ও কাগজে মসৃনতা দিতে প্রলেপ ব্যবস্থাসহ প্রযুক্তিগত কয়েকটা বিষয়।

বৈচিত্র

কাগজ তৈরির সময় চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই তলদেশে এক ধরণের প্রলেপ বা কেমিকেল ট্রিটমেন্ট হয়। এই প্রলেপ মসৃণতা দেয়। এছাড়া কাগজটিতে কী পরিমান চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে তাও মান নির্ণয়ের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। একে সাইজিং বলে। কাগজের মণ্ডা বা পাল্প কতটা মিহি ও কত নিঁখুতভাবে কণাগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকছে সেটাও কাগজের গুন ও মান নির্ণয়ে বিবেচ্য। তাই অনেক কাগজ হাতে ধরলে Texture টাইপ বা খসখসে অনুভূত হয়, কিছু আবার খুব মসৃণ লাগে। কিছু কাগজের উজ্জলতা নাই আবার কিছু আলোর বিপরীতে রাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করে।

যে কোম্পানির রাসায়নিক প্রলেপ যত উন্নত সেই কাগজের জন্য তত বেশি পয়সা খরচ করতে হয় ব্যবহারকারীর। লেখার জন্য বিশ্বে দুই ধরণের কাগজ উৎপাদন হচ্ছে এই মুহূর্তে। একটি খুব কম পাতলা হয়েও মোটা কাগজের মত পারফরমেন্স দিচ্ছে। অন্যটি মোটা হয়েও পাতলাটির মত শতভাগ পারফরমেন্স দিতে পারছে না। ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য এই দুই প্রকার কাগজ তার নিজ নিজ জায়গায় সেরা। এই দুই ধরণের কাগজের মধ্যে শীর্ষ তিনটি নাম। Rhodia, Clairefontaine ও Tomoe River পেপার। প্রথম দুটি রেগুলার কাগজের ব্লিচ ও আনব্লিচড- দুই ধরণেরই পেপার তৈরি করে। টোমো তৈরি করে 52gsm ও 68gsm এর দুটি জনপ্রিয় কাগজ। এরাও হোয়াইট ও ক্রিম পেপার বানায়। কাগজ পুরু হলেই তার চরিত্র বদলাবে- এই ধারণা থেকে বেরিয়ে বিশ্ববাসীকে সারপ্রাইজ পেপার দিয়েছে জাপানের এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের জগদ্বিখ্যাত Tomoe River উন্নত প্রযুক্তি ও ম্যানক্র্যাফটের সমন্বয়ে এক অন্যন্য উপহার। মান যাচাইয়ে ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। ফাউন্টেন পেন ইউজার আর চিত্রশিল্পীরা এই কাগজের ব্যবহার আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বিশেষ ট্রিটমেন্ট দেয়া হয় বলে দীর্ঘস্থায়িত্বের বিবেচনায় এর আগে Penguin, Harper Collins, Simon and Schuster এর মত বড় পাবলিশাররা এই কাগজে বই বের করেছে। প্রিন্ট ও হাতে লেখার জন্য টোমোর মত পাতলা কাগজ এখন সবার কাছেই জনপ্রিয়। অবশ্য Tomoe River এর আগে Radio Bond এর মত একাধিক কোম্পানি এই চরিত্রের কাগজ বানাতো। তবে তাদের জিএসএম ছিল আরেকটু বেশি। Tomoe River পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে 52 জিএসএম এ তাদের কাগজ এনে দাড় করিয়েছে এবং আরও পাতলা করার গবেষণা জারি রেখেছে।

উপরে Tomoe River ৫২ জিএসএম’র ২৪০ পাতার একটি নোটবুক। নিচে রোডিয়ার ৮০ জিএসএম’র ৯৬ পাতার নোটবুক প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চীন যখন কাগজ নামের বস্তুটি আমাদের সামনে এনেছিল তখন বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল তার কিছুটা আঁচ করা সম্ভব Tomoe River কাগজের চাহিদার দিকে তাকালে। এর কেমিকেল ট্রিটমেন্ট কী ও সারফেস থেকে কালি কেন ভিতর দিকে শুষে নেয় না তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা চলেছে। দেখা গেছে, প্রাচীনকালে একটি পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে টোমো তার কাগজকে উন্নত করেছে। আমাদের এ অঞ্চলে অতীতে মণ্ড দিয়ে তৈরি কাগজের দুই তলে মাড়ের প্রলেপ দেয়া হতো। এই প্রলেপ দেয়ার কারণ ছিল কাগজকে লিকপ্রুফ, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করা। পোকা মাকড় এই কাগজ থেকে দূরে থাকতো, সহজে নষ্ট করতে পারতো না। আধুনিককালে একই ফর্মূলাই ভিন্নভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে বিশ্বব্যাপী; পার্থক্য শুধু রসায়নে। নিজস্ব কেমিকেল ট্রিটমেন্টের কারণে Tomoe River এর মাত্র 52 gsm কাগজ 100 gsm’কে টেক্কা দিয়ে দিচ্ছে তরল কালির পারফরমেন্সে। আগেই বলেছি Radio Bond এর মত একই চরিত্রের কিছু কাগজ একই ধরণের পারফরমেন্স নিয়ে বাজারে ছিল। সেসব কাগজের উৎপাদন হ্রাস ও বন্ধ হওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে ফাউন্টেন পেন ব্যবহারকারীদের কাছে TR অতি আরাধ্য হয়ে উঠছে।

Japanese Tomoe River Paper with Sheen

Tomoe River পেপারটি মূলত ক্যাটালগ মেলিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, এটির একাধিক ব্যবহারের জন্য স্থিতিস্থাপক হওয়ার জন্য যথেষ্ট ঘনত্ব এবং আকার রয়েছে। সহজে ভাঁজ করা যায়, লেখা এমনকি আঁকা যায়। উজ্জ্বল সাদা বা নরম ক্রিম রঙের দুটি কাগজ আছে এদের। পেপার অত্যন্ত মসৃণ, অনেকগুলি মাধ্যমের জন্য দরকারি: পেন্সিল, রোলারবল, জেল পেন, ফোয়ারা কলম এবং জলরঙের হালকা ওয়াশ। খুব কম তরল শুষে কাগজটি ধীরে ধীরে সারফেস লেভেলেই উচ্চমাত্রায় কালি শুকিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। যদিও এটি ফোয়ারা কালি এবং জলরঙের মত ভেজা মাধ্যমের জন্য খুব উপভোগ্য হতে পারে।

Pic : Ghosting compare with tomoe river cream 52gsm (Bottom) VS regular Paper 80gsm (UP)

ফোয়ারা কলমের উৎসাহী যারা তারা বিভিন্ন শেড ও শিনিং ইঙ্ক পছন্দ করে। যারা কাগজের উপর কালি হিসাবে সূক্ষ্ম রঙ গ্রেডেশন তৈরি করেন, তারা হালকা ওজনের কাগজে সূক্ষ্ম বর্ণের বৈচিত্রগুলি দেখে খুব প্রশংসা করবে সন্দেহ নেই।  

Japanese Tomoe River Paper with High Sheen

কেউ কেউ কালি ও কাগজের সমন্বয়ে সৃষ্ট নতুন জমিন পছন্দ করেন, কেউ কেউ পছন্দ করেন না। আপনি ঠিক কোন দিকে পড়েছেন তা খুঁজে বের করতে হবে।

Japanese Tomoe River Paper

কাগজ ব্যবহার ও পরীক্ষার জন্য ধৈর্যশীল হওয়া জরুরি। কালিকে বসতে দিতে ও দীর্ঘস্থায়ী হতে রাসায়নিক উপাদান এক ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে বাতাসের সংস্পর্শে। এজন্য সমানতালে কাগজও উল্টো দিক থেকে একটি ভূমিকা পালন করে। রোডিয়া এবং ক্লেয়ারফন্টেইনের কাগজের তুলনায় টোমো বা রেডিও বন্ড কাগজ দীর্ঘ সময় নেয় কালি শুকাতে। এর কারনও সেই প্রলেপ যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। শোষণকারী হিসেবে অন্যসব কাগজের তুলনায় রোডিয়া, ক্লেয়ারফন্টেইন ও টোমো কাগজ ভিন্ন আচরণ করে বলেই এদের পারফরমেন্স বাজারের লোকাল কাগজের সাথে মিলবে না, দামেও অসামঞ্জস্যতা থাকবে। টোমো কাগজের ১০০টি শিট কিনতে যা খরচ সে পয়সা দিয়ে বাংলাদেশে অবলীলায় ৫ রিম 100 gsm’র কাগজ কেনা যাবে। তাই ফাউন্টেন পেনের জন্য কাগজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত শুধু প্রযুক্তি আর প্রায়োগিক নয় অনেকটা ব্যক্তিগত পছন্দও বটে।

*সহায়িকা

1. en.wikipedia.org/wiki/Grammage

2.  Industry Vol. 16 (1925-1926)

3. Industries of India

ছবি ও তথ্য সহায়তা : শরীফ জুনায়েদ, রুবেল শাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *