ভাষান্তর : শাহরিয়ার নীল শুভ্র

শীতের ঘোলাটে সন্ধ্যাটা তখনও গ্রাস করেনি প্রকৃতিকে। উত্তর-পূর্ব নিউইয়র্কের রজার্স আয়ল্যান্ডে সবে মরে যাওয়া আলো চারপাশে। এরইমধ্যে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক দিনের কাজ গুছিয়ে নিতে ব্যাস্ত হাত চালাচ্ছেন। সেখানেই হঠাৎ উল্লসিত শোরগোল!

খননস্থানটি ব্রিটিশ দূর্গ এলাকা। এখানে প্রত্নতত্ত্ববিদরা কী যেন একটা আশ্চর্য বস্তু খুঁজে পেয়েছেন। শুরু হলো ঘাটাাটি। অবশেষে বোঝা গেল প্রত্নবস্তুটি ১৮ শতকের একটি লেখনী সামগ্রী। পিতলের তৈরি এই রাইটিং ইন্সট্রুমেন্টে আছে একটি দোয়াত ও একটি লম্বা পালকের কলম ধারক। তলার দিকে খোদাই করে লেখা ‘Barker’ শব্দটি।

দলপতি ডেভিড স্টারবাক প্রত্নবস্তুর কার্বন পরীক্ষাসহ যাবতীয় নিরীক্ষা সম্পন্ন করলেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে। অবশেষে তিনি জানান, “আমরা আগের কোনো খননেই এত সুন্দর পিতলের লেখনী সামগ্রী খুঁজে পাইনি। এই লেখন সামগ্রীগুলো ফরাসি-ভারতীয় যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রিটিশ কলোনির অব্যক্ত গল্প প্রকাশ করে। এতে খোদাইকৃত লেখা ‘Barker’ দিচ্ছে যে এটি একটি জার্মান কোম্পানি। যারা সে সময়ে লোখনী সামগ্রী তৈরি করতো। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যুদ্ধক্ষেত্রে কালি ও কলমের ব্যবহার। এটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আমার কাছে বিদ্বান ব্যক্তির উপস্থিতির প্রমাণ স্বরূপ”। তবে এখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাকি সাধারণ কেউ ছিলেন সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ বছর শুধুই যে লেখনী সামগ্রী পাওয়া গেছে তেমনটাও নয়। মাস্কট বলের মতো গলিত সীসার পিণ্ড, অগ্নিকুন্ডের শিক সহ আরও কিছু জিনিস খুঁড়ে বের করেছে দলটি। স্টারবাক জানান, যে সকল জিনিস পাওয়া গেছে তার উপর ভিত্তি করে তিনি বিশ্বাস করেন কুটিরের মেঝে আলগা মাটির তৈরি ছিল, অনেক কিছু চলে গেছে এর উপর দিয়ে, বসে গেছে মাটির ভিতরে। পরে অবশ্য তারা কাঠের মেঝে করেছিল যা এখন পুরোপুরি  নিশ্চিহ্ন।

১৭৫০ সালে ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধের সময়ে নির্মিত ‘ফোর্ট উইলিয়াম কমপ্লেক্স’র অংশ ছিল এই রজার্স আইল্যান্ড। ভৌগলিকগত দিক থেকে এর অবস্থান হাডসন নদীর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে যা কিনা হাডসন নদী এবং ক্যামপ্লেইন হ্রদের মধ্যবর্তী সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহার হতো। ১৭৫৬ থেকে ১৭৫৯ সাল পর্যন্ত একটি অনিয়মিত সেনাদলের ঘাঁটি হিসেবে মেজর রবার্ট রজার্স এটি ব্যবহার করেছেন। Rogers Rangers কে বর্তমান United Army এর পূর্বপুরুষ ধরা হয়। পরে ১৭৬৬ সালে যুদ্ধের সময় ‘ফোর্ট এডওয়ার্ড’ স্থানান্তরিত হয় এবং কাঠামোগুলো পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। দূর্গটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও সেনা ঘাটিগুলো তখনও ছিল। Sarotoga– য় চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে জেনারেল বারগেইন দূর্গের দখল নেওয়ার আগ পর্যন্ত মহাদেশীয় সৈনিকেরা সেগুলো ব্যবহার করছিল। রজার্সের সময়ে একটি ব্লকহাউজ, একটি গুটি বসন্তের হাসপাতাল ও একটি সেনানিবাস তৈরি করা হয়েছিল। ১৯ শতকে আইল্যান্ডে কিছু বাড়ী তৈরি করা হয় যার সর্বশেষ ব্যবহার হয় গৃহযুদ্ধের সময় সৈন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে।  

মূল লেখা: 18th c. brass writing kit found at New York fort site (the history blog)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *